Tuesday, August 16, 2022

আয়নায় সিঁদুরের দাগ, হঠাৎ নূপুরের শব্দ! গার্লস হোস্টেলে ভূতুড়ে কান্ড

আয়নাতে হঠাৎ ‘উড়ে এসে জুড়ে বসছে’ সিঁদুর, রাতের বেলা নাকি ছমছম করে বাজছে নূপুর। রাতবিরোতে ‘ভূতের তাণ্ডবে’ ঘুম উড়েছে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান বানিচাঁদ আগরওয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের স্কুল হোস্টেলের ছাত্রীদের। তাদের দাবি, রাত হলেই নাকি হস্টেলে বসে ‘ভূতেদের আসর’। এদিকে ছাত্রীদের ভূতের ভয় কাটাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তলব করেছিলেন এলাকার এক মৌলানা এবং পুরোহিতকে।

জানা গিয়েছে, ওই হস্টেলে মোট ছাত্রী সংখ্যা ১০০ জন। স্কুলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, করোনা পরবর্তী সময়ে দেড় মাস হল স্কুল খুলেছে। এরইমধ্যে ছাত্রীরা মাঝেমধ্যেই অদ্ভূত আওয়াজ পাচ্ছে। কয়েকজন ছাত্রীর দাবি, তারা হঠাৎ আয়নায় সিঁদুর লেগে থাকতে দেখতে পাচ্ছে। শব্দ হচ্ছে নূপুরেরও। স্কুল হস্টেলের সুপার জিন্নাত পারভিন জানাচ্ছেন, দারিদ্রসীমার নীচে থাকা পরিবারের মেয়েরা এই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।

স্কুল হস্টেলের সুপার জিন্নাত পারভিন দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। এরপরেই ‘ভূত তাড়ানো’-র জন্য ডাকা হয় পুরোহিত এবং মৌলানাকে।

এদিকে হস্টেলটি ঘুরে দেখেন দু’জনেই। সামশেরগঞ্জের পুরোহিত দিলীপ কুমার মিশ্র দাবি করেন, “মনুষ্যলোকের আগে প্রেতলোক ছিল। জিন রয়েছে। অনেক জিন সুন্দর দেখতে। তারা মানুষের কোনও ক্ষতি করে না। অনেক জিন খারাপ দেখতে। তারা কিন্তু ক্ষতিকারক।” একই সঙ্গে হস্টেল ঘুরে তিনি দেখে নিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর কথায়, “এখানের বাতাস ভালো করে পরীক্ষা করেছি। সমস্যার কিছু নেই।” অন্যদিকে, মৌলানা কামাত মহলদারের গলাতেও শোনা যায় একই সুর।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের কান্দি শাখার সভাপতি ভূমানন্দ সিনহা বলেন, “এই ধরনের কুসংস্কার থেকে যাতে ছাত্রছাত্রীদের দূরে রাখা যায় সেজন্য যাবতীয় চেষ্টা আমরা করি। প্রচার চালাই। বিজ্ঞান-যুক্তির আলোকে তাঁদের বোঝানো হয় ভূত-প্রেত বলে আদতে কিছু হয় না। সেক্ষেত্রে একটি স্কুল হস্টেল কর্তৃপক্ষ কীভাবে ওঝা ডেকে ছাত্রীদের কুসংস্কারের দিকে ঠেলে দিল?” প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Latest news

00

Related news