Monday, August 1, 2022

কে নির্যাতিত, জনি ডেপ নাকি অ্যাম্বার হার্ড

মানহানির মামলায় শেষবারের মতো সাক্ষ্য দিলেন পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান নায়ক জনি ডেপ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া আদালতে প্রাক্তন স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলার শেষ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ডাকা হয় ডেপকে। সেখানে ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সেই মামলার কিছু অডিও রেকর্ডিং শোনানো হয়। ফাঁস হয় লোমহর্ষক কিছু তথ্য।

অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ডেপ তার বক্তব্যে বলেন, তিনি নিজেই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তাদের বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন এই অভিনেতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তার চেষ্টারও কোনো কমতি ছিল না বলে দাবি তার।

ডেপ দাবি করেন, মতের অমিল হলেই তাকে চড় কিংবা ধাক্কা দিতেন হার্ড। এমনকি একদিন মদের বোতল ছুড়ে মারেন স্বামীর দিকে, এতে জনি ডেপের ডান হাতের মধ্যমা আঙুলের ওপরের অংশ কেটে যায়। যদিও এসব ঘটনা অস্বীকার করেন হার্ডের পক্ষের আইনজীবীরা।

ঘটনার শুরু ২০১৬ সালে, তাদের বিয়ের ঠিক এক বছর পর। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন হার্ড। ডেপ তা অস্বীকার করায় পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায় এবং ওই বছরই আলাদা হয়ে যান তারা। তবে ঘটনা আরও জটিল হয় ২০১৮ সালে যখন ডেপকে ইঙ্গিত করে একটি আর্টিকেলে নিজের যৌন সহিংসতা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করেন হার্ড।

পরবর্তীতে সান ফ্রান্সিসকো হোটেল রুমে হার্ডের অনুরোধে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন ডেপ। তার বিরুদ্ধে আনা নির্যাতনের অভিযোগ হার্ড প্রত্যাহার করবেন বলেও আশাবাদী ছিলেন তিনি। আদালতে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে জানা গেছে, একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দুজন মিলে একটি চিঠি লেখার বিষয়েও কথা বলেছিলেন ডেপ। যদিও সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অ্যাম্বার হার্ড।

শুধু তাই নয়, সে সময় জনি ডেপকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ করেছিলেন হার্ড, যেন জনসম্মুখে ডেপ নিজের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করে। তিনি ভেবেছিলেন আত্মসম্মানের ভয়ে পিছু হঠবেন ডেপ, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়ে চেপে যাবেন তিনি। কিন্তু তা না করে আদালতে শেষ দিনের শুনানিতে এ কথা অকপটে স্বীকার করেন পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান।

এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির একটি রাজ্য আদালতের বিচারক মামলাটি তত্ত্বাবধান করছেন। শিগগিরই জানা যাবে আসলে কে নির্যাতিত, জনি ডেপ নাকি অ্যাম্বার হার্ড।

Latest news
Related news