Monday, August 15, 2022

রমজানে ডিহাইড্রেশন এড়াতে যা করবেন

রমজানে খাবারের কোনো বাধা নেই তাইনা? ইফতারের আগে রাস্তায় বেরোলেই মানুষের ভিড় আর ইফতারের পসরা মুগ্ধ করতে বাধ্য। তবে রমজানে খাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা সংযম করতেই হবে। তবে সেই সংযম কি কি খাবেন আর কি কি খাবেন না তার মধ্যে।

রমজান মাসে যতক্ষণ কিছু না খেয়ে আছেন, ততক্ষন আপনার দেহের কোষ ভেঙে চলেছে। এই সময় ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরিতে সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরী। কিন্তু কিভাবে সেই সুষম খাদ্যের  সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব? বিশেষত এই গরমে কি কি খাবেন আর খাবেন না? এটুকু নিশ্চিত গরমে পানিসল্পতা একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নেয়া যাক এই গরমে রমজানে কি কি খাবেন আর কি কি খাবেন না।

সেহরি
সেহরির সময় অনেকেই ভরপেট খেয়ে থাকেন যাতে সারাদিন খিদে না পায়। তাতে আদপে লাভ হয়না। কারণ সেহরি খাওয়ার পরেও অনেকের ক্ষুধা পায়। এর কারণ কি? সেহরিতে এমন কোনো খাবার খাওয়া উচিত না যা পেটের সমস্যা দেয়। মূলত হাই প্রোটিন ও হাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেটি হতে পারে ভাত, রুটি, মাংস, ডাল বা ওট।

হাই ফাইবার বা হাই প্রোটিন খাবার হজম একটু দেরিতে হয়। ফলে আপনার দ্রুত ক্ষিধে পাবেনা। খেজুর, কলা, ওট, চিড়া, ভাত, রুটি, মাংস ইত্যাদি আপনার সেহরির ডায়েটে থাকতে পারে। অবশ্যই এমন কিছু খাবেন না যা পেটে গ্যাস তৈরি করে। আবার ডিহাইড্রেশন বা বারবার তৃষ্ণা জাগায় এমন খাবার ও খাওয়া উচিত না।

আপনি চাইলে সেহরিতে হালিম খেতে পারেন। হ্যাঁ, ইফতারেও হালিম খাওয়া যায়। তবে হালিমে শর্করা, আমিষ আর স্নেহের মিশ্রণ থাকায় সারাদিন শক্তি পাওয়ার মতো খাবার এটি।

পোল্ট্রি মুরগী খাওয়া এড়ানোই উচিত। কারণ, পোল্ট্রির মাংস খেলে তেষ্টা পায় বেশি। এছাড়া সেহরিতে চা খাবেন না। চা খেলে দেহ থেকে প্রয়োজনীয়  খনিজ পদার্থ এবং পানি বের হয়ে যেতে পারে। তাই পানি অথবা ডাবের রস খেয়ে দেখতে পারেন। অবশ্য খেজুর ও মন্দ হয়না।

ইফতার

ইফতারের আয়োজনটা জম্পেশ হতে বাধ্য। তবে এই গরমে অন্তত ইফতারের আয়োজনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে হবেই। এই যেমন-

পানির পাশাপাশি এমন কোনো তরল রাখা উচিত যাতে ভিটামিন পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ফলের শরবত কিংবা খোদ শরবতই রাখা যায়। রোজা ভাঙার সময় পানির সাথে খেজুর খেতে পারেন। খেজুরে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজের মিশ্রণটি বেশ অদ্ভুত। আর হাই পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খেজুর খুব সহজেই পানি-স্বল্পতা দূর করে। তাই পানির সাথে খেজুর খেলে খুব দ্রুত শরীর হাইড্রেটেড হয়ে ওঠে।

ইফতারের সময় দই খেতে পারেন। দই পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। এতে ইমিউনিটি বাড়ে এবং হজমে সাহায্য হয়। একগ্লাস দই বা লাবাং আপনাকে দ্রুত গরমে স্বস্তি দিতে পারে।

অনেকে ইফতারে চা কিংবা অন্য বেভারেজ খায়। সেসব না খেয়ে বরং ডাবের পানি, লেবুর শরবত, আখের রস খাওয়াই ভালো। বেভারেজে থাকা প্রিজারভেটিভস আমাদের দেহ থেকে দ্রুত পানি নিঃসরণ করায়। তাই বেভারেজ এড়িয়ে চলবেন। প্রয়োজনে আপনার শরবতে তুলশীপাতা মিশিয়ে নিবেন। অবশ্যই ইফতারে ভাজাপোড়া এড়ানোই ভালো।

Latest news

00

Related news