Sunday, August 14, 2022

‘‘শাকিব ভাই আমাকে স্বপ্ন পুরনে সহযোগিতা করছেন’’

স্বপ্নটা পুরনো। কিন্তু বাস্তবায়নের সাহস পাচ্ছিলেন না। কোন পথে হাঁটবেন, তা নিয়েও ছিলেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। সে সময়ে এগিয়ে এলেন ঢালিউডের আলোচিত নায়ক শাকিব খান। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে রোদেলা জান্নাতের। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ‘শাহেনশাহ’ ছবিতেই প্রথমবারের মতো বড়পর্দায়

দেখা যাবে রোদেলাকে। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। বিষয়টিকে দেখছেন শুধু ‘একটি প্রজেক্ট’ হিসেবে। কাজ শেষ হওয়ার পর সন্তুষ্ট হলেই কেবল চলচ্চিত্রে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এই তরুণী।

শামীম আহমেদ রনির পরিচালনায় চলচ্চিত্রে অভিনয়, প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে কথা বলেন রোদেলা। আলাপকালে রোদেলা জানান, তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে। পড়েছেন বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এই মুহূর্তে তিনি মালয়েশিয়ার লিমকউইং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে বিজনেস ইনফরমেশন টেকনোলজির ওপর পিএইচডি করছেন।

‘স্কুলজীবনে অন্য ১০টা স্টুডেন্টের চাইতে আমার জীবনটা আলাদা ছিল। বিষয়টা শুধু এমন ছিল না, স্কুলে যাওয়া, এরপর বাসায় এসে পড়তে বসা। কারণ কালচারাল (সাংস্কৃতিক) সাইডেও আমার যাতায়াত ছিল। তখন বিটিভির শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘‘শোরগোলে’’ অভিনয় করেছি’, বলেন রোদেলা।

‘তখন থেকেই বই পড়ার একটা অভ্যাসও তৈরি হয়েছে। তখন তো আর খুব বেশি কিছু একটা বুঝতাম না। পড়তে ভালো লাগত, তাই পড়তাম। এখনো বই পড়ার অভ্যাসটা বজায় রেখেছি’, যোগ করেন রোদেলা।

বাংলাদেশে হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল রয়েছেন এই তরুণীর পছন্দের লেখকের তালিকায়। আর দেশের বাইরে আফ্রিকান ঔপন্যাসিক উইলবার এডিসন স্মিথ। পাশাপাশি ডেল কার্নেগিও রয়েছেন।

দেশের বাইরে যাওয়ার আগে একটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে তিন-চার মাসের মতো সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন রোদেলা। যদিও আরও অনেকদিন কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু বৃত্তি পেয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সে পথে আর হাঁটা হয়নি। তখন এ নিয়ে তার মধ্যে খারাপ লাগাও ছিল বলে জানান রোদেলা।

শাকিব-রোদেলা
এরপরের ঘটনাটা একদিক থেকে বলা চলে কাকতালীয়। শাকিব খান মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন তার ‘শিকারি’ ছবির প্রচারের কাজে। সেখানেই সিনেমাতে অভিনয় প্রসঙ্গে শাকিবের সঙ্গে কথা হয়। যদিও আগে থেকেই রোদেলার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল শাকিবের। সে কথাও আলাপকালে জানান তিনি।

‘আমার ইচ্ছে আর শাকিব ভাইয়ের অনুপ্রেরণাই আমাকে সিনেমাতে অভিনয়ে আসতে উৎসাহী করেছে। তাই ‘‘শাহেনশাহ’’র সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এটাকে আমি শুধু একটা প্রজেক্ট হিসেবেই নিয়েছি। যখন আমি প্রজেক্ট হিসেবে কাজ করব, তখন আমার মনে হয়, একটু কম সাহস হলেও চলে। বর্তমান কাজের অবস্থান নিয়ে ভাবাটাই বেশি ইম্পরট্যান্ট (গুরুত্বপূর্ণ)। একটা প্রজেক্ট যাক। তারপর বোঝা যাবে, আমার সাহস কতটা, সারভাইভ করতে পারব কি না’, বলেন রোদেলা।

রোদেলা জানান, ‘শাহেনশাহ’ ছবির জন্য গত তিন মাস ধরে নিজেকে গড়ছেন তিনি। এই সময়টাতে নাচ, গান, অভিনয় ছাড়াও অভিনয়ের অন্যান্য দিকের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। কিন্তু সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য পিএইচডিতে বিরতি দেননি।

শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করতে যাওয়া রোদেলা বলেন, ‘যেহেতু ছোটবেলার অভিজ্ঞতা আমায় হেল্প করছে। ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্সে (ধ্রুপদী নৃত্য) আমি ভালো ছিলাম। আর এখন ফিল্মের জন্য আমি নাচ শিখছি। আর অ্যাকটিংয়ের যে বিষয়গুলো আছে, সে বিষয়গুলোতে নিজেকে প্রতিনিয়ত ঝালিয়ে নিচ্ছি।’

‘যেহেতু আমার প্রাতিষ্ঠানিক অভিনয় বিষয়ে অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, তাই শাকিব ভাই আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করছেন। তিনি আমাকে গাইড করছেন। এটা আমাকে অনেকটা হেল্প করছে।’

বাংলাদেশের অভিনেত্রীদের মধ্যে শাবানা, ববিতা, শাবনূরকে অনুসরণ করে পথ চলছেন রোদেলা। বর্তমানে বাংলাদেশের সিনেমার বাণিজ্যিক অবস্থার বাস্তবতার কথা জেনেও তিনি একটা ‘এক্সপেরিমেন্টাল জব’ হিসেবেই ছবিটি করছেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে।

রোদেলার কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘শাকিবের সঙ্গে এই পথ চলায় তাকে মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে আসার আগে তার সম্পর্কে অনেকের কাছ থেকে অনেক ধরনের মন্তব্যই শুনেছি। কিন্তু আসার পর তার সঙ্গে তেমন কোনো মিল পাইনি। এখন পর্যন্ত আমি কোনো সমস্যা ফিল (অনুভব) করিনি। ভবিষ্যতের কথা তো বলতে পারি না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে রোদেলা বলেন, ‘নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় যেকোনো প্রফেশনেই আছে। শুরুটা হওয়ার পর কিছুদিন পরই গা ভাসিয়ে দিলাম, তাতে সাকসেস (সাফল্য) হয় না। নিয়মতান্ত্রিক জীবনটা প্রত্যেকটা প্রফেশনেই প্রয়োজন।’

সূত্র: প্রিয়.কম

Latest news

00

Related news