Saturday, June 25, 2022

আসছে জয়ার ‘বিউটি সার্কাস’

সব বাধা পার করল জয়া আহসান অভিনীত সিনেমা ‘বিউটি সার্কাস’। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অনুমতি পেয়েছে। মাহমুদ দিদার পরিচালিত সিনেমাটি বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ড থেকে বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পেয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাহমুদ দিদার নিজেই। ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘অভিবাদন আপনাদের যারা সমর্থন, সাহস, অর্থ, ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ঋণী করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র বিউটি সার্কাসকে সেন্সর বোর্ড আনকাট ছাড়পত্র ও প্রশংসার সঙ্গে পার করেছে। এবার মুক্তির পালা।’ গতকাল এই নির্মাতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছবিটি মুক্তির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত ঈদ ঘিরেই পরিকল্পনা। ব্যাটে বলে না মিললে, দু-এক সপ্তাহ আগে বা পরে ছবিটি সিনেমা হলে দেখতে পাবেন দর্শক।’

সরকারের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার পরও অর্থ উপযুক্ত না হওয়ায় বিউটি সার্কাস নির্মাণে জটিলতায় পড়েন পরিচালক। এর পরই সহপ্রযোজক খুঁজতে থাকেন দিদার। তখন তার পাশে দাঁড়ায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। পরে নির্মাণ সম্পন্ন করে এটি জমা দেওয়া হয় সেন্সর বোর্ডে। সিনেমাটিতে বিউটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, তৌকীর আহমেদ, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ, হুমায়ূন সাধু প্রমুখ।

সার্কাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। সার্কাস পুড়িয়ে দেওয়ার পরও হুমকির মুখেও একজন নারীর আপন শক্তিতে টিকে থাকার গল্প ফুটে উঠবে চলচ্চিত্রটিতে। এখানে পুরুষের ভূমিকাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুভাবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচলিত চলচ্চিত্রের ছক থেকে বেরিয়ে সমাজের নানা শ্রেণির মোড়ল ও ক্ষমতাধরদের আসল চরিত্র দেখা যাবে এ সিনেমার নায়কদের মাধ্যমে। গণমানুষের পক্ষ নিয়ে হুমকির মুখেও একজন নারীর আপন শক্তিতে টিকে থাকার গল্প ফুটে উঠবে এতে। চারদিক বিশাল আকৃতির প্যান্ডেলে মোড়ানো সার্কাস দল। এর মাঝে সার্কাসের সুন্দরী। এমন জয়াকে দেখা যাবে ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমায়। ছবিতে তিনি একটি সার্কাসের মালিক। তার নাম বিউটি। এর আগে সিনেমার কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জয়াকে প্রথম নজরে দেখলে চেনার উপায় নেই। পাক্কা সার্কাসের রানীর মতো। ১৫ দিন ধরে টানা একটি সার্কাস প্যান্ডেল বানিয়ে শ্যুটিং হয়েছে এ ছবির। এ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘ছবিতে আমি সার্কাসের সুন্দরী হিসেবে অভিনয় করছি। এ ধরনের চরিত্র আমি এর আগে করিনি। আগে যাত্রার একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু সার্কাসের একজন মেয়ের চরিত্র এটাই প্রথম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত যেকোনো চরিত্রে অভিনয়ের আগে অনেক প্রস্তুতি নিই। কিন্তু এবার সে সুযোগ পাইনি। দ্রুত আমাকে চরিত্রের মধ্যে ঢুকতে হয়েছে। পরিচালক ও অন্য সবার সহযোগিতা পেয়েছি। শ্যুটিংয়ের আগের দিন প্র্যাকটিস করেছি। সার্কাসের সবাই সহযোগিতা করেছেন। বিউটি সার্কাসের শ্যুটিংয়ে বেশ ভয়ংকর কিছু দৃশ্যে শট দিতে হয়েছে। অনেকটা অনিরাপদও ছিল তা। তবু ঠিকঠাক চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে এ ঝুঁকি আমি নিয়েছি। ঘোড়া ও হাতিতে চড়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।’

নির্মাতা মাহামুদ দিদার বলেন, ‘বিউটি সার্কাস ছবিটি ঐতিহ্য, সংগ্রাম, প্রেম আর প্রতিশোধের গল্প। মুক্তিযুদ্ধ এসেছে এখানে। নিখুঁত প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে বিউটিই যেনো এখানে ইতিহাসের যোদ্ধা প্রজন্ম। ৭১-এ শহিদের রক্তের তেজস্বী উত্তারাধিকার সে। নির্মাতা মাহামুদ দিদার বলেন, ‘বিউটি সার্কাস ছবিটি ঐতিহ্য, সংগ্রাম, প্রেম আর প্রতিশোধের গল্প। মুক্তিযুদ্ধ এসেছে এখানে। নিখুঁত প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে বিউটিই যেনো এখানে ইতিহাসের যোদ্ধা প্রজন্ম। ৭১-এ শহিদের রক্তের তেজস্বী উত্তারাধিকার সে।’

‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি নিঃসন্দেহে জয়ার জন্য আনন্দের ঘটনা। মহামারী-পরবর্তী সিনেমা চাঙ্গা হওয়ার যে ইঙ্গিত দিচ্ছে সেই সময়ে এ ধরনের সিনেমা জয়াকে নিয়ে যাবে আরও উঁচুতে। যদিও তার সময় এখন ভালোই কাটছে। কলকাতার সিনেমা ‘বিনিসুতোয়’-এর জন্য মার্চে জয়া আহসান পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার বাংলায় সেরা অভিনয়শিল্পীর সম্মাননা। সম্প্রতি একই চলচ্চিত্রের জন্য তাকে দেওয়া হয়েছে আনন্দলোক সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা। অতনু ঘোষের সিনেমাটিতে শ্রাবণী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। কোয়েল মল্লিক, রুক্নিণী মৈত্র, গার্গী রায় চৌধুরী, মধুমিতা সরকারের মতো কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পেছনে ফেলে তিনি এ পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কলকাতায় তৈরি হয়েছে সিনেমা ‘ঝরা পালক’। কবির চরিত্রে ব্রাত্য বসু আর কবিপত্নী লাবণ্য হয়েছেন জয়া আহসান। জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’। তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই সিনেমার এ নামকরণ। সিনেমাটি জুনে মুক্তি পাবে। জয়া বলেন, ‘সিনেমায় আমি লাবণ্য। লাবণ্যই বনলতা, লাবণ্যই কবির সুরঞ্জনা। জীবনানন্দ ও লাবণ্য দাশের পারস্পরিক স্বভাব ছিল পুরোপুরি বিপরীত। চরিত্রটা পর্দায় দেখার জন্য আমিও মুখিয়ে আছি।’

Latest news
Related news