Saturday, June 25, 2022

শিশুর দুধ দাঁতের পরিচর্যা

মানব শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য একটি অঙ্গ দাঁত। একজন মানুষের পুরো জীবনে দাঁত উঠে দুই বার। প্রথমবার যেটি আসে সেটিকে অনেকে দুধ দাঁত বলে। আর এটির আরেক নাম হচ্ছে ডেসিডুয়াস দাঁত। দুধ দাঁত পড়ে যাওয়ার পর যে দাঁত উঠে সেটিই স্থায়ী হয়। মূলত শিশুদের দাঁত উঠে ছয় মাস বয়স থেকে। এই দুধ দাঁত মূলত ছয় বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর এই দুধ দাঁত থাকে সর্বোচ্চ বিশটি। এরপর আস্তে আস্তে দুধ দাঁত পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত উঠে।

ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনসার আহমেদ বলেন, প্রায়ই বাবা-মায়ের মধ্যে শিশুদের দাঁত নিয়ে এক ধরনের ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে। তারা মনে করেন, দুধ দাঁত পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত এমনিতেই উঠবে। তাই দুধ দাঁত পড়ে গেলে আর তারা কোন চিকিৎসা করান না। কিন্তু অনেক সময় এসব দাঁত পড়ে গিয়ে মাড়িতে গর্তের সৃষ্টি হয়। সেজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে ফিলিং বা চিকিৎসা করাতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ বাবা-মা’ই তা করান না। আবার অনেকে সময়ের অনেক আগেই দুধ দাঁত ফেলে দেয়। এটা কোনভাবেউ উচিত নয়।

আরেক বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল হাসান বলেন, অনেক বাচ্চার ঘুমের মধ্যে খাওয়ার অভ্যেস আছে। আবার অনেক বাচ্চা খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়ে। এর ফলে দাঁতের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। মূলত প্রাথমিকভাবে ল্যাকটোবেসিলাস ও স্ট্রেপটোবক্কাস মিউট্যানস নামক ব্যাকটেরিয়াগুলো দাঁতের ক্যাভিটি তৈরীর জন্য দায়ী। দুধ, মিষ্টিজাতীয় খাবার বা এ জাতীয় কোন খাবার যদি দাঁতে দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকে তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া নিঃসরণে উপযুক্ত মাধ্যম তৈরী করে যা ল্যাকটিড অ্যাসিড তৈরী করে দাঁতের উপরের আবরণ অ্যানামেলকে ক্ষয় করে ফেলে এবং দাঁতে গর্তের সৃষ্টি করে। প্রায়ই শিশুদের নার্সিং বোটল সিনড্রোম বা আর্লি চাইল্ডহুড ক্যারিস রোগ হয়। এরফলে সামনের দাঁতগুলোয় গর্তের সৃষ্টি হয়। যদি ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন হয় তবে দাঁতে তীব্র ব্যাথা শুরু হয়। তখন অবশ্যই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে।তিনি আরও বলেন, দাঁতকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই বাবা-মাকে একটি সময় পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে করে কোন সমস্যা তৈরী না হয়। আর যদি সমস্যা হয় তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

Latest news
Related news